কূটনৈতিক সম্পর্ক বহাল রাখুন : পাকিস্তানকে ভারত


কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের জেরে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য স্থগিত এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পাকিস্তানের প্রতি নয়াদিল্লি আহ্বান জানিয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় দাবি করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে সংবিধানের বিশেষ অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে পাকিস্তান।

কাশ্মীরের মর্যাদা বাতিলের একদিন পর বুধবার ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও নয়াদিল্লি থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত ও সমঝোতা ট্রেনের চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে ভারতীয় সিদ্ধান্তের পর পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই চিরবৈরী প্রতিবেশীর মাঝে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ নজরদারি এবং প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার পাকিস্তান সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করছে ভারত সরকার। কূটনৈতিক যোগাযোগের স্বাভাবিক চ্যানেল বজায় রাখতে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

এদিকে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের আগেই কার্যত কাশ্মীরকে গত রোববার পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় এই উপত্যকায়।

গত সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৩০ হাজার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র অমরনাথ যাত্রা বাতিল করে কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেয় সরকার। অমরনাথ যাত্রায় সন্ত্রাসী হামলার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানানো হয়।