বাংলাদেশকে নিয়ে যে পরিকল্পনা লাঙ্গাভেল্টের


 

নিউজিল্যান্ড সফর, বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকা সফরেও বিবর্ণ বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণ। অথচ পেস বোলিং দিয়েই ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫ বিশ্বকাপের পরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও খারাপ হয়নি বাংলাদেশের পেস বোলিং। অথচ পেসারদের নতুন বলে উইকেট নিতে না পারা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার এবং বাংলাদেশের নতুন বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টকে খুঁজতে হবে এর সমাধান।

দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফগানিস্তানের সাবেক বোলিং কোচ ল্যাঙ্গাভেল্টের পরিকল্পনা বাংলাদেশের পেসারদের ধারাবাহিক করা। লাইন লেন্থ ঠিক করা। হাতে সবসময় ধারাবাহিক এবং লাইন লেন্থ মেপে বোলিং করার মতো তিনজন পেসার রাখা। ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএনকে ল্যাঙ্গাভেল্ট বলেন, ‘যে কোন ফরম্যাটেই নতুন বলে আপনাকে ধারাবাহিক হতে হবে। লেন্থ ঠিক রাখতে হবে। প্রতি ওভারে চার-পাঁচটি বল যেখানে করতে চান সেখানে ফেলতে হবে।’

বাংলাদেশ নিজেদের কন্ডিশনে সাধারণত দুই জন পেসার নিয়ে খেলে। কিন্তু ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডে খেলতে হলে কমকরে তিন পেসার নিয়ে খেলতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২০১০ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলা এই পেসার জানান, তিনি তিনজন ফিট এবং ধারাবাহিক পেসার ঠিক করে রাখতে চান। যারা লেন্থ ঠিক রেখে আগ্রাহী বোলিং করবে।

২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নতুন বলে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে। ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু ২০১৯ সালে এসে ওই জায়গায় ব্যর্থ বাংলাদেশ। এই বছরে প্রথম পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশ নিতে পেরেছে মাত্র সাত উইকেট। বিশ্বকাপে মুস্তাফিজ ২০ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু তা ৩০ ওভারের পরে। বাংলাদেশ দলে নতুন বলের আগ্রাসীভাব ফিরিয়ে আনতে হবে। সব কন্ডিশনে ভালো বোলিং করার সামর্থ্য অর্জন করতে হবে।

এ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৭২ ওয়ানডে এবং ছয়টি টি-২০ খেলা বোলিং কোচ ল্যাঙ্গাভেল্ট বলেন, ‘সেরা হতে হলে নতুন বলে ধারাবাহিক হতে হবে। মুস্তাফিজ তার বলের গতিতে ভালো পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু নতুন বল গ্রিফ করা যায় না বলে কাজটা কঠিন। উইকেটে বল ফেলে ভালো আউট কাটার দেয় সে। কিন্তু ডানহাতির ক্ষেত্রে তাকে বলে সুইং করাতে হবে। বাঁ-হাতির বেলায় বল কিছুটা দূরে রাখতে হবে।’ বাংলাদেশ পেসাররা ভিন্ন কন্ডিশনে লাইন লেন্থ মেনে বল করতে পারে না বলে মনে করেন ল্যাঙ্গাভেল্ট। এই জায়গা নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। যদি বোলারদের টেকনিকে সমস্যা থাকে তবে কাজ করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন এই কোচ।

দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ জানান, খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিলে-মিশে কাজ করতে পছন্দ করেন তিনি। সেজন্য তিনি খেলোয়াড়দের শক্তির এবং দুর্বল দিক দ্রুত ধরতে পারেন, ‘আমি প্রথমে তাদের সঙ্গে আলাপ করবো। তাদের মতামত নেব। এরপর আমার কোচিং দর্শন তাদের ওপর প্রয়োগ করবো। সেরা হতে তাদের কি কি করতে হবে তা বুঝিয়ে দেব।’