বাজেট জনবান্ধব, হতাশার কিছু নেই: ওবায়দুল কাদের


 

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনবান্ধব’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ বাজেট নিয়ে হতাশার কিছু নেই। বাজেটের কোথাও নেগেটিভ কোনো বিষয় নেই। এ বাজেট জনবান্ধব পজিটিভ বাজেট।

শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

দলের পক্ষ থেকে বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুগোপযোগী ও জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মুস্তফা কামালসহ সংশ্নিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ মনে করে এবারের বাজেট জনকল্যাণমুখী, বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যমূলক বাজেট। এ বাজেট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলায় সহায়ক হবে, দেশের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রবদ্ধিও সুদৃঢ় করবে।

তিনি বলেন, এ বাজেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্মিত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তিমূলকে আরও সুদৃঢ় ও গতিশীলকরণের নব-উদ্যোম সৃষ্টিকারী বাজেট। যুগান্তকারী পদক্ষেপের সমাহারে পরিপুষ্ট বাজেট। কাজেই এ বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করবে, ক্রমান্বয়ে উন্নত রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলনও ঘটেছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাফল্যের সম্ভাবনাময় বাজেট। নবউদ্যম ও নবউদ্যোগে দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাজেট এটা। সর্বস্তরের জনগণও এ বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে। এ বাজেট বাংলাদেশের সব শ্রেণী ও পেশার জনগণের স্বপ্নপূরণের বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যমূলক বাজেট। এটা জনগণের প্রত্যাশা পূরণের অনন্যসা ধারণ দলিল। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, অদম্য তারুণ্য ও প্রতিবন্ধীসহ অনগ্রসর মানুষের কাছে এ বাজেট পৌঁছে গেছে। তাদের স্বপ্নপূরণেই এ বাজেট।

বাজেট নিয়ে কিছু মহলের নেতিবাচক সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যাদের দৃষ্টিতে এই বাজেট নেগেটিভ, তাদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার সরকার হচ্ছে ‘যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা’। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখাতে হবে বলেই তারা বাজেট নিয়েও নেতিবাচক কথা বলছেন। আসলে আওয়ামীবিদ্বেষ থেকেই তারা বাজেট নিয়ে বিরুপ মন্তব্য ও বিদ্বেষমূলক মনগড়া কথা বলছেন। মনগড়া ব্যাখ্যা দিলে চলবে না, যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করতে হবে।

বাজেটের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ১০ বছর ধরে বিএনপি প্রত্যেকটা বাজেট নিয়ে একই মনোভাব প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রতিটি বাজেটই নানা সোপান অতিক্রম করে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করে নিয়ে এসেছে। বিএনপির এসব বিরূপ সমালোচনা মনগড়া ও গতানুগতিক। এটা তাদের নেতিবাচক রাজনীতির নেতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল গত জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েও শপথ নেননি। আবার উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছেন। এটাও তাদের নেগেটিভ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।

এ প্রসঙ্গে বাজেট নিয়ে কোনো প্রস্তাব থাকলে সংসদে দিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, কেবল বিরোধীতার খাতিরে বিরোধীতা না করে জনকল্যাণে কোনো প্রস্তাব থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে সংসদে উপস্থাপন করুন। যুক্তিসঙ্গত হলে তা গ্রহণ করা হবে। যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব গ্রহণের মত উদারতা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সরকারের রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে মাত্র ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছিল। তাদের পক্ষে জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকারের দেওয়া ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেটের ব্যাপকতা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এটাই স্বাভাবিক।

এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন সবসময়ই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগ সরকার গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনার নতুন সরকার নতুন স্পিরিট ও নতুন উদ্যম নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও অতিক্রম করবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার এক বছরের জন্য নয়। এর বিস্তৃতি ভিশন ২০২১, ২০৪১ ও ২১০০ সাল এবং ডেল্টা প্ল্যানের ইশতেহার। তাই নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে মিলিয়ে যারা আজ বাজেট সম্পর্কে অপপ্রচার করছেন, তাদের বুঝতে হবে এই বাজেট কিন্তু এক বছরের জন্য। সরকারের পাঁচবছরের জন্য বাজেট প্রণীত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. দীপু মনি, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল, শামসুন্নাহার চাঁপা, দেলোয়ার হোসেন, হারুনুর রশিদ, প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ূয়া, মারুফা আকতার পপি, আনোয়ার হোসেন, গোলাম কবির রাব্বানী চিনু, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং প্রমুখ।