উড়তে থাকা কলকাতাকে মাটিতে নামালো চেন্নাই


সবার আশা ছিলো, জমজমাট লড়াই হবে চেন্নাই সুপার কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যকার ম্যাচে। দুই দলই ফর্মের চূড়ায় থাকায় উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের অপেক্ষা ছিলো কোটি ভক্ত-সমর্থক। কিন্তু আশায় গুড়েবালি।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়ের বিপক্ষে লড়াই দূরে থাক, মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেনি কলকাতা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত দাপট দেখিয়ে কলকাতাকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে। কলকাতার কলকাতার করা ১০৮ রানের সংগ্রহ ১৬ বল হারে রেখেই টপকে গেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।

প্রথম পাঁচ ম্যাচ শেষে দুই দলের অবস্থান ছিলো সমান্তরালে। সমান ৪টি করে ম্যাচ জিতেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ছিল কলকাতার দখলে।

মুখোমুখি লড়াইয়ে কলকাতাকে হারিয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছে আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম সফল দলটি। অন্যদিকে ৬ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে দ্বিতীয়তে নেমে গেছে আইপিএলের দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।

কলকাতার করা ১০৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোনো তাড়াহুড়ো করেনি চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যানরা। দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার ফাফ ডু প্লেসিস একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৫ বলে ৪৩ রান করে।

এছাড়া আরেক ওপেনার শেন ওয়াটসন ৯ বলে ১৭, তিনে নেমে সুরেশ রায়না ১৩ বলে ১৪ এবং চার নম্বর ব্যাটসম্যান আম্বাতি রাইডুর ব্যাট থেকে ৩১ বলে ২১ রান।

এর আগে নিজেদের ঘরের মাঠ চিপাকের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে টসে জিতে কলকাতাকে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চেন্নাই অধিনায়ক ধোনি। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অতিথিরা।

আইপিএল ইতিহাসে দশমবারের মতো ছয় ওভারের পাওয়ার প্লে’তে ৪ উইকেট হারানোর নজির গড়ে কলকাতা। প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৯ রান। ক্রিস লিন ০, নিতিশ রানা ০, সুনিল নারিন ৬ ও রবিন উথাপ্পা ফেরেন ১১ রান করে।

পঞ্চম উইকেটে ২০ রান যোগ করেন অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক ও তরুণ শুভমান গিল। ইনিংসের নবম ওভারে ফিরে যান দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করা কার্তিক। এক ওভার পরই দলীয় ৪৭ রানের মাথায় ৯ রান করে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন গিল।

তবে এরপর খানিক প্রতিরোধ গড়েন আন্দ্রে রাসেল এবং পিয়ুশ চাওলা। দুজন মিলে ৩২ বলে গড়েন ২৯ রানের জুটি। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ৮ ও ৯ রানে পরপর দুইবার জীবন পান রাসেল। প্রথমে হরভজন সিং এবং পরে রবিন্দ্র জাদেজা তার ক্যাচ হাত থেকে ফেলে দেন।

ইনিংসের ১৬তম ওভারে পরপর দুই বলে সাজঘরের পথ ধরেন পিয়ুশ চাওলা (৮) ও কুলদ্বীপ যাদভ (০)। পরের ওভারে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রাসিদ কৃষ্ণা (০) ফিরে গেলে পুরোপুরি একা বনে যান রাসেল। যে কারণে শেষদিকে স্ট্রাইক পুরোপুরি নিজের কাছে রেখে খেলতে থাকেন তিনি।

খুব বেশি সুবিধে করতে পারেননি আজকের আগে চার ইনিংস ব্যাট করে প্রায় ৩০০ স্ট্রাইকরেটে ২০৭ রান করা রাসেল। তবে শেষ ওভারে দুইটি চার ও একটি ছক্কা মেরে দলীয় সংগ্রহটাকে একশ পার করিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চলতি আসরে দ্বিতীয় এবং চেন্নাইয়ের বিপক্ষে টানা তৃতীয় ফিফটিও তুলে নেন রাসেল।

সবমিলিয়ে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মারে ৪৪ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবীয় দানব রাসেল। তার অপরাজিত ফিফটিতে ভর করেই ৯ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রানের সংগ্রহ পেয়েছে কলকাতা। চেন্নাইয়ের পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন দীপক চাহার। হরভজন সিং ও ইমরান তাহিরের ঝুলিতে যায় ২টি উইকেট।