বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও অসহায় বাংলাদেশ


ওয়েলিংটনের চতুর্থ দিন আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংস ৬ উইকেটে ৪৩২ রানে ঘোষণার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে তাদের অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে স্বাগতিকরা। চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮০ রান। বাংলাদেশ পিছিয়ে ১৪১ রানে।

প্রথম ইনিংসে ২২১ রানের লিড পেয়ে দ্রুত বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর ফায়দাটা তারা নিয়ে নেয় তৃতীয় সেশনের শেষ দিকে। নিজেদের বোলিংয়ের পর কিউই পেসারদের সামনে অসহায় ছিলো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাদের সুইং আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিরোধ দিতে না পারায় বিদায় নিয়েছেন তিন ব্যাটসম্যান। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান প্রথম টেস্টে আলো ছড়ানো তামিম ইকবাল।

ট্রেন্ট বোল্টের বলে পুরোপুরি পরাস্ত হয়ে তামিম ফিরেছেন ৪ রানে। মুমিনুল কিছুক্ষণ থিতু হওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছেন আবার। বোল্টের সুইং করা বলে স্লিপে সাউদিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ১০ রান করে।

সাদমান স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আক্রমণাত্মক থেকে স্কোরবোর্ড এগিয়ে নেন কিছুক্ষণ। অবশ্য এই আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলা কাল হয় তার ম্যাট হেনরির শর্ট বলে। লাফিয়ে ওঠা বলে পুল করতে গেলে বল গ্লাভসে লেগে জমা পড়ে উইকেটের পেছনে। ক্রিজে আছেন সৌম্য সরকার ১২ রানে আর মোহাম্মদ মিঠুন ২৫ রানে।

তার আগে চতুর্থ দিনটা দাপটের সঙ্গেই ব্যাটিং করেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। রস টেলরের ডাবল সেঞ্চুরি ও হেনরি নিকোলসের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৪৩২ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে তারা। তবে বেসিন রিজার্ভে আগের দিনটা নড়বড়ে ভঙ্গিতে শেষ করেছিলো তারা। আগের দিনের উইকেট পেসারদের সুযোগ দিলেও চতুর্থ দিন ছিলো উল্টো। পুরোপুরি ব্যাটিং বান্ধব হওয়ায় নিউজিল্যান্ডেও আগ্রাসন চালিয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর।

সোমবার ২ উইকেটে ৩৮ রানে খেলা শুরু করে নিউজিল্যান্ড। আগের দিন ১০ রানে ব্যাট করতে থাকা কেন উইলিয়ামসন হাফসেঞ্চুরি তুলে নিলেও টেলরের কাছ থেকেই এসেছে শক্ত প্রতিরোধ। এই দুজনের মিলে করা ১৭২ রানের শক্ত জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরান তাইজুল। বাংলাদেশি স্পিনার ফিরতি ক্যাচ ধরে মাঠছাড়া করেন উইলিয়ামসনকে। স্বাগতিক অধিনায়ক ১০৫ বলে ১১ চার ও ১ ছয়ে ফেরেন ৭৪ রানে। তাতেও থামেনি তাদের প্রতিরোধ। ৯৭ বলে ক্যারিয়ারের ১৮তম সেঞ্চুরি তুলে নেন টেলর। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথমবার টেস্টে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি ১৪ চার ও ৩ ছয়ে। একই দিনে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় কিংবদন্তি মার্টিন ক্রোকেও পেছনে ফেলেন তিনি। রয়েছেন কেন উইলিয়ামসনের পরেই।

অবশ্য রস টেলরের এই ডাবল সেঞ্চুরিতে ছিলো ভাগ্যেরই ছোঁয়া। এদিন ১৫তম ওভারে আবু জায়েদের একই ওভারে দুবার ক্যাচের সুযোগ দিয়েছিলেন। একবার কাভারে মিস করেছেন রিয়াদ আবার স্লিপে হাতছাড়া করেছেন সাদমান। দুইবার জীবন পেয়ে রস টেলর তা কাজে লাগিয়েছেন তৃতীয় ডাবলসেঞ্চুরি তুলে নিতে। নাহলে কিউইদের ইনিংসের গতি প্রকৃতি ভিন্ন কিছুই হতো!

উইলিয়ামসন ফিরলে রস টেলরের সঙ্গী হন হেনরি নিকোলস। তৃতীয় সেশনের শুরুতেই ১২২ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। এরপর তাইজুল তাকে বোল্ড করলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ ২১৬ রানের জুটি। ১২৯ বলে ৯ চারে ১০৭ রান করেন নিকোলস। তার বিদায়ের পর রস টেলর থিতু হননি। ২১১ বলে চার মেরে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর পরের ওভারেই মোস্তাফিজের শিকার হন লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে। তার ২১২ বলে সাজানো ২০০ রানের ইনিংসে ছিলো ১৯ চার ও ৪টি ছয়। এরপর আবু জায়েদ রাহীর বলে বিজে ওয়াটলিং ফিরলে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে তিনটি উইকেট নেন আবু জায়েদ, দুটি নেন তাইজুল। আর একটি মোস্তাফিজুর রহমান।