ভিকারুননিসার তিন শিক্ষককে বরখাস্তের আদেশ জারি


ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্তের আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। একইসঙ্গে ওই তিন শিক্ষকের এমপিও বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অরিত্রী অধিকারীকে (১৫) আত্মহত্যা প্ররোচনার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

৫ ডিসেম্বর, বুধবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নির্দেশ জারি করা হয়।

যে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, বেইলি রোড ক্যাম্পাসের প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শিক্ষক হাসনা হেনা।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ চিহ্নিত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকেকে বরখাস্ত, এমপিও বাতিল ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

দুপুরে এ নির্দেশনার কথা জানানোর পর বিকেলে অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা (বিভাগীয় ব্যবস্থা) নিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এই তিন শিক্ষকের এমপিও বন্ধের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অন্য আরেকটি আদেশে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালকে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগ তুলে ওই শিক্ষার্থীকে ও তার বাবা-মাকে অপমানসহ ভয়ভীতি দেখানোর পর নবম শ্রেণির প্রভাতী শাখার ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী আত্মহত্যা করে। এই ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে ওইদিন থেকেই বিক্ষোভ শুরু করে। মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) অরিত্রীর বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। বুধবারও সকাল থেকে এই ঘটনার বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে।

এরই একপর্যায়ে সকালে মাউশির তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।