জামাল খাসোগির শরীরের অংশ বিশেষের ‘সন্ধান’


সৌদির সাংবাদিক ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক জামাল খাসোগির শরীরের অংশ বিশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসাল জেনারেলের বাসভবনের বাগান থেকে জামাল খাসোগির দেহের অংশ পাওয়া যায়।

তুরস্কের বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই খবর জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।

এদিকে ২৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

বক্তব্যে খাসোগি হত্যা নিয়ে নানা কথা বললেও এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি রাজপরিবারের কাউকে সরাসরি দোষারোপ করেননি এরদোয়ান।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর খাসোগি কিছু কাগজপত্রের জন্য ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে গিয়েছিলেন। মনে হচ্ছে, তারপরই দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাকে খুনের পরিকল্পনা শুরু করেন।’

তিনি বলেন, ‘দূতাবাসে ঢোকার পর খাসোগি সেখান থেকে আর বের হননি, এটা নিশ্চিত। তাকে খুন করার আগে কর্মকর্তারা ইস্তাম্বুলের বেলগ্রেড জঙ্গল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইয়ালোভায় রেকি করেছিলেন।’

পূর্বপরিকল্পনার দাবি স্পষ্ট করতে এরদোয়ান বলেন, ‘২৮ অক্টোবর খাসোগি দূতাবাসে যাওয়ার পর কিছু কর্মকর্তা তুরস্ক ছাড়েন এবং নতুন কিছু কর্মকর্তা তুরস্কে প্রবেশ করেন। এসব প্রমাণ করে যে, খাসোগি হত্যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ’

খাসোগির হত্যাকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবেও বর্ণনা করেন এরদোয়ান। এ ঘটনা তদন্তে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞদেরও নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২ অক্টোবর সাংবাদিক জামাল খাসোগি সৌদি দূতাবাসে প্রবেশের পর থেকে নিখোঁজ হন। ২৮ অক্টোবর দূতাবাসে গেলে তাকে ওই দিন আবারও দূতাবাসে আসতে বলা হয়।

খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সর্বপ্রথম তুরস্ক সরকারকে জানান তার তুর্কি বাগদত্তা হেতিসে চেঙ্গিজ। তুরস্ক সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সঙ্গে সঙ্গে দূতাবাসের কনসাল জেনারেলকে ফোন করেন।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই কর্মকর্তা পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, কনসাল জেনারেলকে খাসোগির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বেশ হতবাক হয়েছেন বলে মনে হয়েছে তার। তবে তিনি খাসোগির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে সে সময় দাবি করেছিলেন।

সৌদি আরব প্রথম থেকেই খাসোগির নিখোঁজের বিষয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে। তবে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তরোত্তর চাপ বৃদ্ধির পর সৌদি আরব অবশেষে স্বীকার করেছে যে খাসোগিকে দূতাবাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাসোগি হত্যাকাণ্ডকে ‘সৌদি আরবের মারাত্মক ভুল’ হিসেবে সরাসরি স্বীকার করেন।