জাপানকে ছাড়াই দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধজাহাজ প্রদর্শনী শুরু


জাপানকে ছাড়াই দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের ১৩টি দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক যুদ্ধজাহাজ প্রদর্শনী শুরু করেছে।

স্থানীয় সময় ১০ অক্টোবর, বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজু দ্বীপ উপকূলে পাঁচদিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শুরু হয়।

জাপানের যুদ্ধজাহাজ থেকে বিতর্কিত ‘রাইজিং সান’ নৌ পতাকা সরিয়ে নিতে সিউল অনুরোধ জানালে এর প্রতিবাদ হিসেবে টোকিও এ প্রদর্শনী থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। খবর এএফপি’র।

এ প্রদর্শনীতে প্রাথমিকভাবে জাপানের নৌবাহিনীর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তাদের ওই পতাকা উড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপানের সাবেক এই উপনিবেশে টোকিওবিরোধী একের পর এক বিক্ষোভের প্রতিবাদে জাপান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে।

১৯৫৪ সাল থেকে রাইজিং সান প্রতীক জাপানের নৌ-প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি নিশান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ প্রতীকটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তাদের সামরিক আগ্রাসনের প্রতীক হিসেবে দেখে থাকে।

কোরিয়ার নাগরিকরা এখনো জাপানের ১৯১০-৪৫ সালের উপনিবেশ শাসনের ব্যাপারে বিরক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এ দুই প্রতিবেশী দেশকে ঐতিহাসিক বিভিন্ন ইস্যু এবং টোকিওর বলে দাবি করা সিউল নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ছোট দ্বীপ নিয়ে প্রায় মুখোমুখী অবস্থান নিতে দেখা যায়।

সিউলের নৌবাহিনী এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সকল দেশকে তাদের জাহাজগুলোতে কেবলমাত্র দেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের আহ্বান জানানোর পর টোকিও গত সপ্তাহে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেয়।

টোকিও এ পতাকা উত্তোলন না করার সিউলের অনুরোধ নাকচ করে দিয়ে যুক্তি তুলে ধরে যে, জাপানের আইন অনুযায়ী তাদের দেশের জাহাজগুলোতে ‘রাইজিং সান’ পতাকা উড়ানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।