রেকর্ড গড়েও ম্যাচ রেফারির শুনানিতে খাদিজা


পাকিস্তানের বিপক্ষে চার ম্যাচ সিরিজের তিন টি-টোয়েন্টিতে (একটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত) হেরে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ওয়ানডে আসতেই ঘুরে দাঁড়াল সালমা খাতুনের দল। সিরিজের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

একমাত্র ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ের মূল কারিগর খাদিজাতুল কুবরা। এদিন তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। ৯.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ২০ রান দিয়ে একাই পাকিস্তানের ৬ উইকেট তুলে নেন তিনি, যেটা ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার। রেকর্ড গড়ার দিনেও ম্যাচ রেফারির শুনানির মুখে পড়তে হয় ডানহাতি এই স্পিনারকে।

মূলত উইকেট পেয়ে মাত্রাতিরিক্ত উদযাপন করার কারণে কুবরাকে ডেকে পাঠান ম্যাচ রেফারি। শুধু তাই নয়, শাস্তির মুখে পর্যন্ত পড়তে যাচ্ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই স্পিনার। তবে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন শাস্তির হাত থেকে। শাস্তি না হলেও ১৫ মিনিটের শুনানিতে বেশ ঘাবড়ে যান কুবরা। ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ম্যাচ রেফারির জেরার মুখে পড়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে একাদশে ছিলেন না কুবরা। সিরিজের শেষ ম্যাচে দলে ফিরেই উইকেটের দেখা পান তিনি। তার শিকারে পরিণত হন পাকিস্তান অধিনায়ক জাভেরিয়া খান। সর্বোচ্চ রান করা জাভেরিয়াকে ফিরিয়ে কুবরার উদযাপন ছিল বাঁধনহারা। সঙ্গে ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজও।

উদযাপন দেখে পাকিস্তানি অধিনায়কও ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান। এরপর ব্যাট উঁচিয়ে বোলারের দিকে তাক করে পাল্টা মেজাজ দেখান। একই দৃশ্যের অবতারণা হলো সিরিজের একমাত্র ওয়ানডেতে। এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে দাপট দেখান জাভেরিয়া। এই ম্যাচেও কুবরার শিকারে পরণিত হন তিনি।

কাকতালীয়ভাবে এই ম্যাচেও দলীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান আসে জাভেরিয়ার ব্যাট থেকে। কিন্তু এদিন তাকে ফিরতি ক্যাচে আউট করার পর উদযাপন শেষ করে সোজা তার কাছে চলে যান কুবরা। জানা যায়, আগের ম্যাচে ভুল বোঝাবুঝি হওয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ডনহাতি এই স্পিনার। পরে আরও তিন উইকেট নেন কুবরা।

ম্যাচ শেষে কুবরাকে ডেকে পাঠান ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুল। অনানুষ্ঠানিক এই শুনানিতে তার সঙ্গে সঙ্গে আরও ছিলেন বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ অঞ্জু জৈন। শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটিক ‘সাধারণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ম্যাচ রেফারি।