২৩ হাজারেরও বেশি ময়নাতদন্ত করেছেন তিনি!


যুক্তরাজ্যের ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ডা. রিচার্ড শেফার্ড—যিনি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত কিছু দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাইন ইলেভেনের টুইন টাওয়ারে বোমা হামলায় নিহতদের থেকে শুরু করে ২০০৫ সালের লন্ডন হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, এমনকি ১৯৯৩ সালে বর্ণবাদী হামলায় খুন-হওয়া কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ স্টিফেন লরেন্স; এ ছাড়া প্রিন্সেস ডায়নার মৃতদেহও ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন রিচার্ড।

রিচার্ড শেফার্ড অনেক বছর ধরে এই কাজ করেছেন, যার ফলে এখন তার মধ্যে দেখা দিয়েছি নানা ধরনের মানসিক জটিলতা।

পেশাটি রিচার্ড শেফার্ডের মানসিক স্বাস্থ্যকে কতটা প্রভাবিত করেছে, সে সম্পর্কে বিবিসির ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার অনুষ্ঠানকে তিনি বলেন, ‘এক জায়গায় ২০০টি টুকরো টুকরো, ক্ষতবিক্ষত প্রাণহীন দেহ আপনার মনে একটি ছাপ রেখে যায়। মৃত্যুর সঙ্গে আমি খুবই পরিচিত। গত ৩৫ বছর ধরে অামার মৃত্যুর সঙ্গে পরিচয়। কিন্তু এর মধ্যে এমন একটা সময় আসে যখন এটিকে দৈনন্দিন জীবন থেকে আলাদা করা সম্ভব হয় না।’

রিচার্ড শেফার্ড জানান, কর্মজীবনে তিনি ২৩ হাজারেরও বেশি ময়নাতদন্ত করেছেন। যাদের মধ্যে অনেক মরদেহ ছিল, যারা গত কয়েক দশকে সংঘটিত হওয়া বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন এই পেশায় থাকার কারণে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) ভুগতে হয়েছে তাকে। একজন প্যাথলজিস্ট হিসেবে শীর্ষে থাকা অবস্থায় এই সমস্যা শনাক্ত করতে সক্ষম হন তিনি। পানীয়ের গ্লাসে বরফের উপস্থিতি তাকে তার মানসিক সমস্যা শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

রিচার্ড শেফার্ড ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বোমা হামলায় নিহতদের ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। তখন বরফের অভাবে মৃতদেহগুলো শীতল রাখা সম্ভব হয়নি। সে সময় মানসিক সমস্যার সূত্রাপাত হলেও রিচার্ড শেফার্ড মনে করেন, আরও ১০ বছর আগে থেকেই তার এই সমস্যা।

শেফার্ড জানান, ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের হাঙ্গারফোর্ড এলাকায় বন্দুকধারী মাইকেল রায়ান নিজেকে হত্যা করার আগে ১৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। সেটাই ছিল তার প্রথম বড় কোনো কেস। আর ওই হত্যাকাণ্ডের পর মানসিক অস্থিরতার প্রথম ইঙ্গিতটা অনুভব করেন তিনি।

শেফার্ড বলেন, ‘ওই ঘটনাটি খুবই উদ্ভট ও অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি তৈরি করেছিল আমার ভেতরে, যা পরবর্তী সময়ে ক্রমে বিস্তার লাভ করে।’