বিশ্বে ৮২ কোটি ১০ লাখ মানুষ ক্ষুধার্ত: জাতিসংঘ


বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ‍বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

১১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি’ নিয়ে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বিশ্বে প্রয়োজনীয় খাদ্য থেকে বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৮২ কোটি ১০ লাখ। অর্থাৎ প্রতি ৯ জনে একজন অপুষ্টির শিকার।

বিশ্বে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১৫ কোটি ১০ লাখ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। যা বিশ্বের মোট শিশুর ২২ শতাংশ। পুষ্টিহীনতায় এসব শিশুর দৈহিক স্বাভাবিক বিকাশ আটকে আছে।

স্থুলতা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৭ কোটি ২০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্থুলতায় ভুগছে। অর্থাৎ প্রতি আট জনে একজন স্থুলতার শিকার। দিন দিন এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

এই সঙ্কট উত্তরণে বিশ্বের দেশগুলোকে সমন্বিত চেষ্টা চালাতে হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন যৌথভাবে তৈরি করেছে, জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল।

বিশ্বে ক্ষুধার্তের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ ও সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক মন্দাকে দায়ী করছেন জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

গবেষকরা বলছেন, বিশ্বের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। বন্যা, তাপদাহ, ঝড়, খরা বেড়ে গেছে। ফলে শস্য উৎপাদনে বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে পরিস্থিতি চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে ক্ষুধার্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ ও সহিংসতার ভূমিকাও রয়েছে।

দাতব্য সংস্থা অক্সফামের রবিন উইলোবি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমে আসার পর গত তিন বছর ধরে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি খুবই হতাশাজনক।’

‘ক্ষুধার্ত মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গরীব দেশগুলোকে সহায়তা দিতে হবে।’