রাজধানীতে বসেছে কোরবানির পশুর মাংসের হাট


গাবতলীর বাস টার্মিনাল এলাকায় মাংস কিনতে আসা জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি পেশায় গাড়িচালক। এবার ঈদের ছুটি পাননি তাই বাড়িতেও যেতে পারেনি। কোরবানির মাংসের স্বাদ পেতে এই হাটে মাংস কিনতে এসেছেন।

মাংস কিনতে আসা আবুল হোসেন নামের অপর এক ব্যক্তি জানান, গাবতলী এলাকায় তার ছোট একটি খাবারের হোটেল রয়েছে। তাই এই বাজার থেকে প্রতি বছরই মাংস কিনে ফ্রিজে রাখেন। কারণ বাজার দরের চেয়ে অনেকটা কম দামে এখান থেকে মাংস কেনা যায়।

রুহুল সরদার নামের একজন জানান, এই হাটে যে মাংস বিক্রি হয় সেই মাংসগুলো থেকে বাছাই করে কিনতে পারলে বেশ ভালো মাংসই পাওয়া যায়। তবে এখানে অনেক কসাই উচ্ছিষ্ট কিছু মাংস কেটে ভালো মাংসের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। তাই যারা বিভিন্ন বাসা বাড়ি থেকে মাংস নিয়ে আসে তাদের মাংসগুলো কিনতে পারলে বেশ লাভবান হওয়া যায়।

কোরবানির পশুর মাংস বিক্রয় করতে আসা এক বিক্রেতার কাছে মাংসের দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাড়সহ ৩০০ টাকা কেজি। আর হাড় ছাড়া ৩৫০ টাকা কেজি। আর যদি শুধু মাথার মাংস নেন তবে ২০০ টাকা কেজি।’

মাংস বিক্রি করতে আসা আব্দুল হালিম নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বস্তিতে থাকেন। কিছু দিন আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। দুই মেয়ে, তারাও স্বামীর বাড়িতে। সকাল থেকে বিভিন্ন বাসায়, মহল্লায় গিয়ে কেজি পাঁচেক মাংস সংগ্রহ করেছেন তিনি। বাসায় রান্না করে দেওয়ার মতো কেউই নেই। সে কারণে মাংসগুলো হাটে বিক্রি করছেন তিনি।

আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাংস বেইচ্যা টাকা রাইখ্যা দিমু। বাসায় মেয়েরা আইলে আবার এই টাকা দিয়া তাদের মাংস কিন্যা খাওয়ামু।’