হার্দিক-বুমরাহর নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে হারাল ভারত


জয়ের জন্য পঞ্চম ও শেষ দিনে ভারতের চাই ১ উইকেট। অন্যদিকে ৫২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করা ইংল্যান্ডের চাই আরও ২১০ রান। হাতে রয়েছে কেবল একটি উইকেট। ম্যাচ বাঁচাতে আদিল রশিদ ও জেমস অ্যান্ডারসনকে কাটিয়ে দিতে হবে পুরো  দিনটাই। অবশ্য ট্রেন্টব্রিজ টেস্টের পঞ্চম দিন রশিদ-অ্যান্ডারসন খেলতে পারলেন মাত্র ২.৫ ওভার। যোগ করতে পারলেন ছয় রান। তারপরই ভারত পেল ২০৩ রানের বড় জয়।

প্রথম ইনিংসে বল হাতে আলো ছড়ান হার্দিক পান্ডে। বল হাতে ২৯ বলে নেন পাঁচ উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে খেলেন অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস। আর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে নজর কাড়েন জশপ্রীত বুমরাহ। এই পেসার ৮৫ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ধস নামান ইংলিশ শিবিরে। হার্দিক-বুমরাহর এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে চলমান পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথমবারের মতো শেষ হাসি হাসল সফরকারীরা। প্রথম দুই টেস্টেই হারের স্বাদ পেয়েছে ভারত।

ভারতের দেওয়া ৫২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ২৩ রানে তৃতীয় দিন শেষ করে ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিনের শুরুতে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কিটন জেনিংস ও অ্যালিস্টার কুককে সাজঘরে ফেরান ইশান্ত শর্মা। থিতু হয়ে বিদায় নেন জো রুট এবং অলিভার পোপও। ৬২ রান তুলতেই টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারালেও জশ বাটলার ও বেন স্টোকসের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে স্বাগতিকরা।

এই দুজনের ব্যাটে স্কোরকার্ডে জমা হয় ১৬৯ রান। এই জুটি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই সেঞ্চুরি করা বাটলারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ব্রেক থ্রু এনে দেন বুমরাহ। আউট হওয়ার আগে বাটলার ১৭৬ বলে ২১ চারে করেন ১০৬ রান। বাটলারের পর জনি বেয়ারস্টো ফেরেন সাজঘরে। টিকতে পারেননি ক্রিস ওকসও। এরপর ৬২ রান করা স্টোকসকে হার্দিক সাজঘরে ফেরালে জয়ের সুবাতাস পেতে থাকে সফরকারীরা।

অবশ্য স্টুয়ার্ট ব্রডের সঙ্গে নবম উইকেটে ৫০ রানের দারুণ জুটিতে সফরকারী দলের বোলারদের হতাশায় ভোগাচ্ছিলেন আদিল  রশিদ। কিন্তু ব্রডকে সাজঘরে ফিরিয়ে চারদিনেই ম্যাচ শেষ করার আশা আরও উজ্জ্বল হয় ভারতের। কিন্তু দশম উইকেট জুটি চতুর্থ দিন শেষেও আর ভাঙতে পারেনি ভারত। রশিদ-অ্যান্ডারসনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় টেস্টের পঞ্চম দিন পর্যন্ত মাঠে গড়ায় খেলা। যদিও শেষ হাসি হাসে সফরকারীরাই।

তৃতীয় টেস্ট হারলেও পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।