দুটি পরমাণু হামলার শিকার হয়েও বেঁচে যান সুতোমু ইয়ামাগুচি


১৯৪৫ সালের ৯ আগস্টের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জাপানের নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা চালায়। এর ঠিক তিন দিন আগে জাপানের আরেক শহর হিরোশিমাতেও ‘লিটল বয়’ নামে এক পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। শহর দুটি পরিণত হয় মৃত্যুকূপে। সুতোমু ইয়ামাগুচি নামের এক জাপানি নাগরিক হিরোশিমা ও নাগাসাকি দুই শহরেই পরমাণু বোমার শিকার হয়েছিলেন। তবে দুবারই তিনি বেঁচে যান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সুতোমু ইয়ামাগুচিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি হিবাকুশা ‘অ্যাটমিক বম্ব সারভাইভার’।

৭৩ বছর আগে ৬ আগস্ট, অফিসের কাজে হিরোশিমাতে গিয়েছিলেন সুতোমু ইয়ামাগুচি। সেদিন এক বিকট শব্দ শুনতে পান তিনি। এক লাখ চল্লিশ হাজার মানুষ মারা যায় সেদিনের পারমাণবিক হামলায়। তবে বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা এর প্রায় আড়াই গুণ। কিন্তু সেদিন বেঁচে যান ২৯ বছর বয়সী সুতোমু।

সেদিন জ্ঞান হারানোর আগে সুতোমু দেখেছিলেন, তার শরীরের অনেকটা অংশ পুড়ে গেছে আর বাম পাশের কানে তিনি কিছু শুনতে পাচ্ছেন না। তিনি জানতেন না যে, তিনি পরমাণু হামলার শিকার হয়েছেন।

হামলার শিকার সুতোমু পরের দিন বহু কষ্টে ট্রেনে করে বাড়িতে পৌঁছান। দেখা হলো স্ত্রী ও বাচ্চার সঙ্গে। ৯ আগস্ট তিনি গেলেন তার কর্মস্থলে। তার পুরো শরীরে সে সময় ব্যান্ডেজ অবস্থায় ছিল। অফিসের সহকর্মীদের ভয়াবহ সেই বোমা হামলার ঘটনা বলছিলেন। সেই মুহূর্তে আচমকা নাগাসাকির আকাশেও সেই ভয়াবহ আলো আর সেই কান ফাটানো শব্দ।

আবারও আহত হন সুতোমু। নাগাসাকি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেল। কিন্তু এবারও বেঁচে গেলেন তিনি। তার স্ত্রী সন্তানও বেঁচে গিয়েছিলেন।

পরে তিন বছরের মধ্যে সুতোমুর দুইটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। তার দুই মেয়েই আজীবন অসুস্থ। ২০১০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। সুতোমুর স্ত্রী-সন্তানও মারা যায় ক্যান্সারে।

সুতোমুকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে ‘টোয়াইস বোম্বড, টোয়াইস সার্ভাইভ’ নামে সেই তথ্যচিত্রটি হুইলচেয়ারে বসে দেখেন তিনি। সে সময় তিনি এই বোমা নিশ্চিহ্নকরণের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এমনকি তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে চিঠিও দিয়েছিলেন এই বিষয়ে।