আটকে পড়া বাকী কিশোররা উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন


১৫ দিন সরু গুহায় আটকে থাকার পর থাইল্যান্ডের কিশোর ফুটবল দল ও তাদের কোচকে উদ্ধারে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয় ৮ জুলাই রবিবার। সারাদিন ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক এ অভিযানে চার কিশোরকে বের করে আনা হয়। বাকী ৯ জন এখনো গুহা থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আজই তাদের উদ্ধারে আবারও অভিযান শুরু করা হবে।

রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় ১৩ জন অভিজ্ঞ বিদেশি ডুবুরি ও ৫ জন থাই নেভি সিল সদস্য ওই কিশোরদের উদ্ধারে গুহার ভেতর রওয়ানা দেয়। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগেই সেখান থেকে চারজনকে নিয়ে ফিরে আসেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারের পর তাদেরকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় ৫০ মাইল দূরের চিয়াং রাই প্রাচানুকরোহ হাসপাতালে। রাতে থাই নেভি সিল ও চিয়াং রাই প্রদেশের গভর্ণর নারোংসাক ওসোটানাকোর্ন চার কিশোরের উদ্ধার তথ্য নিশ্চিত করেন। নারোংসাক তাদেরকে মো ১,২,৩,৪ নামে ডাকছেন। এটা তাদের প্রতীকী নাম। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাদের আাসল নাম জানানো হবে।

২৩ জুন নিখোঁজ হওয়ার নয় দিনের মাথায় তাদের সন্ধান পাওয়ার পর গত পাঁচ দিন ধরে উদ্ধার নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এত অল্প বয়সী কিশোর, যাদের সিংহভাগ সাঁতারই জানে না, তাদেরকে ডুবুরির পোশাক পরিয়ে পানিভর্তি সরু গুহা দিয়ে বের করে আনার চেষ্টা প্রাণঘাতি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু আরও প্রবল বৃষ্টি হলে পুরো সুড়ঙ্গপথটিই নিমজ্জিত হয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় ঝুঁকি সত্বেও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

গুহাপথের বেশ কয়েকটি জায়গা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। পানিতে স্রোত আছে এবং ঘোলা। কিশোরদের একেকজন করে বের করে আনা হয়েছে। প্রতিজন কিশোরকে দুজন ডুবুরি নিজেদের তত্ত্বাবধানে বের করে এনেছেন। পুরো পথ পার হতে  ৫-৬ ঘন্টা লেগে গেছে। গতকাল যেভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, আজও একই ডুবুরিরা একইভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন।

গত তিন-চারদিন ধরে কিশোরদের ডুবুরির পোশাক পরিয়ে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মনোবল চাঙা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কালকে ৪জনকে উদ্ধারের পর এখনো যে ৯জন ভেতরে আছেন, তারা সবাই শরীর ও মনের দিক থেকে বেশ ভালো অবস্থায় অাছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। আর যে চারজন উদ্ধার হয়েছেন, তারাও ভালো আছেন বলে জানা গেছে।