ইরানের মেঘ চুরি করছে ইসরায়েল!


মেঘ আর বরফ কি চুরি করা যায়? বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হলেও তা এখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অথচ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই কাজেরই অভিযোগ এনেছেন ইরানের এক সেনা কর্মকর্তা!

২ জুলাই, সোমবার এক কৃষি সম্মেলনে ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রেজা জালালি দাবি করেন, ইরান থেকে মেঘ ও বরফ চুরি করছে ইসরায়েল। খবর আইএফএলসায়েন্স।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালালি ইরানের সিভিল ডিফেন্স অর্গানাইজেশনের প্রধান। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল এবং এর একটি প্রতিবেশী দেশ ইরানে আসা মেঘগুলোকে পানিশূন্য করে দিচ্ছে। তারা মেঘ ও বরফ চুরি করছে। তিনি দাবি করেন, কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় ইরান বাদে বাকি সব দেশের পাহাড়ে বরফ জমছে।

তবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের এই মতামত সে দেশের সবাই সমর্থন করছেন না। ইরানের মেটিয়রলজিক্যাল সার্ভিসের প্রধান আহাদ ভাজিফ জানান, কোনো দেশের পক্ষে বরফ বা মেঘ চুরি করা সম্ভব নয়। এমন একটি বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে দেশের মানুষকে সমাধানের পথ থেকে বিচ্যুত করা হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।

হ্যাঁ, তাত্ত্বিকভাবে মেঘ চুরির যন্ত্র তৈরি অসম্ভব কিছু নয়। চীন তাদের শুকনো এলাকায় বৃষ্টি বাড়াতে এমন যন্ত্র নিয়ে গবেষণা করছে। কিন্তু এ যন্ত্র এখনো পরিকল্পনার পর্যায়েই আছে। আর তা সফল হবার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।  শুধু তাই নয়, অন্য একটি দেশের মেঘ চুরির জন্য এ যন্ত্র ব্যবহার করাও সম্ভব হবে না। এ তো আর জাদুবিদ্যা নয়!

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রেজা জালালির ওই বক্তব্য উঠে আসে ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থায়। বক্তব্যে তিনি আরও জানান, বিদেশি হস্তক্ষেপে পরিবেশ পরিবর্তন (ক্লাইমেট চেঞ্জ) হচ্ছে ইরানে। এটা কিন্তু তেমন ভুল।

পৃথিবীর সব দেশই পরিবেশ পরিবর্তনে কিছু ভূমিকা রাখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন বেশি বেশি দূষণের কারণে এ পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী। অন্যদিকে ইরান পরিবেশ পরিবর্তনে তেমন ভূমিকা না রাখলেও তাদের ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে। তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলাই যায় যে বিদেশী হস্তক্ষেপে ইরানের পরিবেশ পরিবর্তন হচ্ছে। আসলে পরিবেশ পরিবর্তন তো সারা বিশ্বেই হচ্ছে, শুধু ইরানে নয়।

আহাদ ভাজিফ জানান, পরিবেশ পরিবর্তনের কারণেই ইরানে মেঘের পরিমাণ কমে এসেছে এবং বৃষ্টি কম হচ্ছে। এতে দেশটিতে বেশ লম্বা খরা দেখা দিয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে পাহাড়েও বরফ কমে আসছে। এর জন্য ইসরায়েল বা অন্য কোনো দেশকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই।