প্রথমবারের মতো ‘কমব্যাট অপারেশনে’ যুদ্ধবিমান এফ-৩৫


যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যন্ত আধুনিক ও ব্যয়বহুল এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধ বিমান ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর হয়ে তার প্রথম যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।

২২ মে, মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল আমিকাম নরকিন লেবাননের বৈরুতের ওপর দিয়ে যাওয়া এই বিমানের একটি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আর এর পরপরই শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। খবর বিবিসি অনলাইন।

জেনারেল নরকিন বলেন, “এ বিমান একটি ‘গেম চেঞ্জার’ অর্থাৎ এটি আসার পর বিমানযুদ্ধ আর আগের মতো থাকবে না।”

নরকিন আরও বলেন, ‘আমরা এ বিমান সারা মধ্যপ্রাচ্যের ওপরে উড়িয়েছি এবং দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণও চালিয়েছে।’  তবে কোন লক্ষ্যবস্তু তা তিনি উল্লেখ করেননি।

লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধ বিমান যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এবং প্রতিটি বিমানের দাম প্রায় ১০ কোটি ডলার। এই বিমানে আছে ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ এ বিমান ওড়ার সময় শত্রুপক্ষের রাডারে তার অস্তিত্ব ধরা পড়বে না। এমনকি শত্রুপক্ষের বিমানের চোখে পড়ার আগেই সে নিজেই তাকে দেখতে পাবে।

বিমানটির পাইলটের হেলমেটে বসানো আছে একটি ডিসপ্লে সিস্টেম, যাতে অন্যদিকে মুখ করে থাকা অবস্থায়ও শত্রু বিমানের দিকে গুলি করতে পারবে।

পাইলট শত্রু লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি চিহ্নিত করতে পারবেন, শত্রু রাডার ‘জ্যাম’ বা অকার্যকর করে দিতে পারবেন এবং আক্রমণ প্রতিহত করতে পারবেন। তাছাড়া এ বিমানের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত অপারেশন কমান্ডারের সাথে শেয়ার করা যাবে।

যদিও সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এফ-৩৫ যুদ্ধিবিমানে শত্রুর রাডার ফাঁকি দেওয়ার ব্যাপারটিকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, অন্যান্য দিক থেকে এতে কমতি রয়েছে।

ইসরায়েল এই বিমান ব্যবহারের দাবির কথা জানানোর কারণ হিসেবে বিবিসির সংবাদদাতা টম বেটম্যান জানিয়েছেন, সম্ভবত ইসরায়েল তার সামরিক শক্তি দেখানোর জন্যই আমেরিকানদেরও আগে এ বিমান ব্যবহারের কথা ঘোষণা করেছে।