পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা: ইরান


উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের ‘বহু পরাজয়ের’ প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ইরানের।

১১ মে, শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ অভিযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত খণ্ডযু্দ্ধের পর এই প্রথম কোনো বক্তব্য দিল তেহরান।

ইসরায়েলি হামলাকে ‘সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের নিন্দনীয় লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করে কাসেমি বলেন, ‘ইরান দৃঢ়ভাবে এই আক্রমণের নিন্দা জানায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ইসরায়েলের আগ্রাসনকে আরও উৎসাহিত করবে। সিরিয়া অবশ্যই নিজেকে রক্ষা করার অধিকার রাখে।’

বাহরাম কাসেমি বলেন, ‘ইসরায়েল ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সিরিয়ায় বারবার হামলা চালাচ্ছে। যা আন্তর্জাতিক আইন ও সব কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘন।

সিরিয়ায় যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সহিংসতা চালিয়েছে, তারা মূলত ইসরায়েল-আমেরিকা ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের হয়েই করেছে। কিন্তু সিরিয়ায় তাদের বহুমুখী পরাজয়ের পর তার প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা চালিয়েছে।’

এর আগে গত ১০ মে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েল সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও ইরানের কিছু স্থাপনার ওপর বিমান হামলা চালায়।

ইসরায়েলের দাবি, ইরান সিরিয়া থেকে গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি স্থাপনা লক্ষ্য করে ২০টি রকেট নিক্ষেপ করে। ওই হামলার জবাব দিতেই তারা বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের নিক্ষিপ্ত ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যে আঘাত করেছে।

অবশ্য ইরানের এ অভিযোগ সরাসরি স্বীকার বা নাকচও করেনি ইসরায়েল। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ (বাশারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত) শুরু হলে ইরান তার অত্যন্ত ঘনিষ্ট মিত্র বাশার আল আসাদের পাশে দাঁড়ায়। বাশারকে টিকিয়ে রাখতে শত শত সেনা ও সামরিক উপদেষ্টা নিয়োগ করে দেশটি। ইতোমধ্যে রাশিয়ার সহায়তায় গৃহযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে যায় এবং বাশারের অবস্থান সুসংহত হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও তাদের মিত্ররা এ পরাজয় নিয়ে চরম অস্বস্তি রয়েছে।