বড় পরিসরে পরমাণু কর্মসূচি শুরু করবে ইরান


ইরানের পরমাণু কার্যক্রম স্থগিত রাখার চুক্তি থেকে কয়েকদিন আগে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলাফল হিসেবে জোরেশোরে পরমাণু কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান, জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

১১ মে, শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

জাভেদ জারিফ জানান, পরমাণু কর্মসূচি রক্ষা করতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি। এর পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি নতুন করে শুরু করবে দেশটি।

যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে এত বিতর্ক, ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে সেই চুক্তি করেছিল ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করবে না এবং এর বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু ৮ মে মঙ্গলবার এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলাফল হিসেবে ইরান জুড়ে বিক্ষোভ দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে হাজার হাজার ইরানি নাগরিক রাস্তায় নামেন। এই বিক্ষোভের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো হয়।

জাভেদ দাবি করেন, ট্রাম্প ‘অজ্ঞ এবং অবিবেচক’ এর পাশাপাশি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কারণেই মধ্যপ্রাচ্য সংঘর্ষে পতিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে সরে গেলেও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে এই চুক্তি অব্যহত রাখার কথা ভাবছে ইরান। এ সপ্তাহের মঙ্গলবার জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ব্রাসেলসে বৈঠক করবেন জাভেদ।

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলও শুক্রবার ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এক বক্তব্যে। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বড় শক্তি এই চুক্তি থেকে সরে যাবার কারণে চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

চুক্তি থেকে সরে যাওয়াই শুধু নয়, এর পাশাপাশি সিরিয়ার যুদ্ধে ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়েও সম্প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। সিরিয়ায় ইসরায়েলের অধিকৃত গোলান হাইটস এলাকায় ইরান হামলা করেছে, এই দাবিতে ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। এ কারণে ইরানজুড়ে বিক্ষোভে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।